Showing posts with label বাংলাদেশ সেনাবাহিনী. Show all posts
Showing posts with label বাংলাদেশ সেনাবাহিনী. Show all posts

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকরির বিজ্ঞপ্তি ২০১৯ _ bangladesh army job circular 2019


আগামী ২০ জানুয়ারি ২০১৯ হতে ১৩ জুন ২০১৯ তারিখ পর্যন্ত নির্ধারিত সেনানিবাসে সৈনিক পদে লােক ভর্তি কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে ।

সেনাবাহিনীতে যােগদানে আগ্রহী পুরুষ ও মহিলা প্রার্থীদের আবেদনের জন্য বিস্তারিত তথ্যাবলী নিম্নরূপঃ

১ । যােগ্যতা

ক । সাধারণ ট্রেড ( জিডি ) - পুরুষ ও মহিলা ।

( ১ ) বয়স । ২৬ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে ১৭ বছর এর কম এবং ২০ বছরের বেশি হবে না ( এফিডেভিট গ্রহণযােগ্য নয় ) ।

( ২ ) শিক্ষাগত যােগ্যতা । এসএসসি / সমমান ( মাদ্রাসা / কারিগরি / উন্মুক্ত ) পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ - ৩ . ০০ পেয়ে উত্তীর্ণ । বিজ্ঞান বিভাগ হতে উত্তীর্ণ মহিলা প্রার্থীগণকে অগ্রগণ্যতা দেয়া হবে ।

খ । কারিগরি ট্রেড - পুরুষ । ।
( ১ ) বয়স । ২৬ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে ১৭ বছর এর কম এবং ২১ বছরের বেশি হবে না । কেবলমাত্র ড্রাইভার ট্রেডের ক্ষেত্রে ১৮ বছর এর কম এবং ২১ বছরের বেশি হবে না ( এফিডেভিট গ্রহণযােগ্য নয় ) । ( ২ ) শিক্ষাগত / কারিগরি যােগ্যতা । ক । এসএসসি ভােকেশনাল হতে সংশ্লিষ্ট কারিগরি বিষয়সহ ন্যূনতম জিপিএ - ৩ . ০০ পেয়ে উত্তীর্ণ ।

খ । এসএসসি / সমমান ( মাদ্রাসা / কারিগরি / উন্মুক্ত ) পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ হতে ন্যূনতম জিপিএ - ৩ . ০০ পেয়ে উত্তীর্ণ এবং কারিগরি শিক্ষাবাের্ড কর্তৃক অনুমােদিত প্রতিষ্ঠান হতে সংশ্লিষ্ট ট্রেড কোর্সে যােগ্য ।

গ । চালক পেশার ক্ষেত্রে বিআরটিএ কর্তৃক অনুমােদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে ড্রাইভিং কাম অটোমেকানিক্স কোর্স যােগ্য এবং বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে । এসএসসি / সমমান ( মাদ্রাসা / কারিগরি / উন্মুক্ত ) পরীক্ষায় যেকোনাে বিভাগ হতে ন্যুনতম জিপিএ - ৩ . ০০ প্রাপ্ত হতে হবে ।

গ । শারীরিক মান - পুরুষ ও মহিলা ।

বিবরন

পুরুষ প্রার্থী মহিলা প্রার্থী ১ . ৬৮ মিটার ( ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি ) বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ - গােষ্ঠী ও | ১ . ৬০ মিটার ( ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি ) বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ - গােষ্ঠী ও উচ্চতা ( ন্যুনতম ) । সম্প্রদায় ব্যতীত । বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ - গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের | সম্প্রদায় ব্যতীত । বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ - গােষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের জন্য ১ . ৬৩ মিটার ( ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি ) । জন্য ১ . ৫৬ মিটার ( ৫ ফুট ১ ইঞ্চি ) ।

ওজন ( ন্যূনতম ) । ৪৯ . ৯০ কেজি ( ১১০ পাউন্ড ) । ৪৭ কেজি ( ১০৪ পাউন্ড ) । বুক ( ন্যূনতম ) স্বাভাবিক ০ . ৭৬ মিটার ( ৩০ ইঞ্চি ) , স্বাভাবিক ০ . ৭১ মিটার ( ২৮ ইঞ্চি ) , স্ফীত ০ . ৮১ মিটার ( ৩২ ইঞ্চি ) । ফীত ০ . ৭৬ মিটার ( ৩০ ইঞ্চি ) ।

ঘ । স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যােগ্য ।

৫ । বৈবাহিক অবস্থা ও অবিবাহিত ( তালাকপ্রাপ্ত নয় ) ।

চ । সাঁতার ও সাঁতার জানা অত্যাবশ্যক

আরো বিস্তারিত জানতে ছবি দেখুনঃ






ভর্তির সময় নিবেৰ্ণিত সনদপত্র / ছবি / লেখার সামগ্রী অবশ্যই সঙ্গে আনতে হবে ।

ক । শিক্ষাগত যােগ্যতার মূল সনদপত্র / ACADEMIC TRANSCRIPT ( মার্ক শীট ) । ফটোকপি হলে সত্যায়িত হতে হবে । তবে পরবর্তীতে মূল সনদপত্র প্রদর্শন করতে হবে ।

খ । সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক দেয়া স্থায়ী ঠিকানা ও জন্ম তারিখ সম্বলিত মূল প্রশংসাপত্র ।
গ । অভিভাবকের সম্মতিসূচক সনদপত্র যা সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান কর্তৃক সত্যায়িত হতে হবে ।
ঘ । এসএসসি / এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ( ADMIT CARD ) ।

। ৬ । সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান কর্তৃক দেয়া জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ও চারিত্রিক সনদপত্রের মূল কপি ।

চ । সরকার অনুমােদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কারিগরি দক্ষতার মূল সনদপত্র ( কেবলমাত্র কারিগরি পেশায় আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য ) ।

ছ । সদ্যতােলা পাসপাের্ট সাইজের ( ৫ সেঃ মিঃ X৪ সেঃ মিঃ ) ০৬ কপি এবং ষ্ট্যাম্প সাইজের ( ২ . ৫ সেঃমিঃ X ২ সেঃমিঃ ) ০২ কপি সত্যায়িত ছবি । ছবির পটভূমি নীল আকাশী রংয়ের , পরিধেয় পােষাক হালকা রং এর হতে হবে ।

জ । সাঁতার পরীক্ষা দেয়ার জন্য প্রয়ােজনীয় পােষাক । ।
ঝ । লিখিত পরীক্ষার জন্য কলম , জ্যামিতি বক্স , পেন্সিল , স্কেল ও ক্লিপবাের্ড ইত্যাদি । । উপজাতিদের ক্ষেত্রে তাদের রাজা / উপজাতি প্রধান এর সনদপত্র ।


৩ । নির্বাচন পদ্ধতি । লিখিত পরীক্ষা ( বাংলা , ইংরেজি , গণিত , সাধারণ জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা ) , স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে যােগ্য প্রার্থী নিবার্চন করা হবে । ৪ । প্রশিক্ষণ । সেনাসদরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ০৬ ( ছয় ) মাস হতে ০১ ( এক ) বছর মেয়াদী মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ গহণ করতে হবে ।

৫ । প্রার্থীর ছবি ও রােল নম্বর সম্বলিত প্রবেশপত্র । আগামী ২০ জানুয়ারি ২০১৯ হতে ১৩ জুন ২০১৯ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন সেনানিবাসে প্রতিদিন ( শুক্রবার , শনিবার ও সরকারী ছুটির দিন ব্যতীত ) ০৮০০ ঘটিকা হতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে । উল্লেখ্য যে , সাধারণ ( জিডি ) ট্রেডে ভর্তিচ্ছুক পুরুষ ও মহিলা প্রার্থীগণকে টেলিটক মােবাইল হতে নিম্নবর্ণিত পদ্ধতিতে এসএমএস করে http://sainik.teletalk.com.bd ওয়েব সাইটের মাধ্যমে Online Application করতে হবে । প্রত্যেক প্রার্থীকে এই পদ্ধতি অবলম্বন করে নিজ নিজ ছবি ও রােল নম্বর সম্বলিত প্রবেশপত্র প্রিন্ট করে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে

। ৬ । বিএনসিসি ক্যাডেটদের ভর্তি পরীক্ষার স্থান ও তারিখ আগামী ৩১ মার্চ ২০১৯ তারিখের মধ্যে স্ব - স্ব রেজিমেন্ট এর নিকট হতে টাষ্ট ব্যাংকের যে কোন শাখার মাধ্যমে “ সেনাসদর , এজি ’ র শাখা , পিএ পরিদপ্তর এর নামে ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড , প্রিন্সিপাল শাখা ” এর অনুকূলে ২০০ / - টাকার পে - অর্ডার / ব্যাংক ড্রাফট এর বিনিময়ে নিম্নবর্ণিত ভর্তিকারী সংস্থা হতে ভর্তি ফরম সংগ্রহ পূর্বক পরীক্ষার তারিখ ও সময় সম্পর্কে জানতে হবে ?

ভর্তিকারী সংস্থা | বিএনসিসি ক্যাডেট | | ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র স্থান | ভর্তিকারী সংস্থা | বিএনসিসি ক্যাডেট । ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রস্থান | কুমিল্লা , ফেনী , নােয়াখালী , চাঁদপুর , লক্ষীপুর সদর দপ্তর রিক্রুটিং ইউনিট | ঢাকা বিভাগের বিএনসিসি ক্যাডেট | ঢাকা সেনানিবাস ( আর্মি স্টেডিয়াম ) | বিআরইউ কুমিল্লা | | শেল ( ও বনাম + | ও বি - বাড়িয়া জেলার বিএনসিসি ক্যাডেট | কুমিল্লা সেনানিবাস | বিআরইউ বগুড়া রাজশাহী বিভাগের বিএনসিসি ক্যাডেট বগুড়া সেনানিবাস ( জাহাংগীরাবাদ ) এডহক বিআরইউ রংপুর রংপুর বিভাগের বিএনসিসি ক্যাডেট | রংপুর সেনানিবাস । | এডহক বিআরইউ খুলনা খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিএনসিসি স্যাডেট | জাহানাবাদ সেনানিবাস । চট্রগ্রাম , কক্সবাজার রাঙ্গামাটি , বান্দরবান ও এডহক বিআরইউ চট্রগ্রাম | | চট্রগ্রাম সেনানিবাস | বিআরইউ কুমিল্লা | সিলেট বিভাগের বিএনসিসি ক্যাডেট | জালালাবাদ সেননিবাস | | খাগড়াছড়ি জেলার বিএনসিসি ক্যাডেট
৭ । সেনাসন্তান ও কারিগরি ট্রেড প্রার্থী সেনাসদর , এজি ’ র শাখা , পিএ পরিদপ্তর " এর নামে “ ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড , প্রিন্সিপাল শাখা ” এর অনুকূলে ট্রাষ্ট ব্যাংকের যে কোন শাখার এর মাধ্যমে ২০০ / টাকার পে - অর্ডার / ব্যাংক ড্রাফট করতঃ সেনাসন্তান এবং কারিগরী ট্রেডের প্রার্থীগণকে নিম্নবর্ণিত আর্মস / সার্ভিসেস সেন্টার হতে নির্দিষ্ট তারিখে ভর্তি ফরম সংগ্রহ করে যথাযথভাবে পূরণ করতঃ ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে হবেঃ
ক । সেনাসন্তানদেরকে ( চাকুরীরত ও অবসর প্রাপ্ত ) সন্তান কোটা ও অন্যান্য কারিগরি ট্রেডে সৈনিক পদে লােক ভর্তি ( করণিক ব্যতীত ) ঃ ( ১ ) আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমার তারিখ ঃ ০৩ মার্চ ২০১৯ তারিখ হতে ০৫ মার্চ ২০১৯ তারিখ পর্যন্ত । ( ২ ) ভর্তির তারিখ ঃ ১০ মার্চ ২০১৯ তারিখ হতে ১৪ মার্চ ২০১৯ তারিখ পর্যন্ত । ( ৩ ) ভর্তির স্থান । সকল আর্মস / সার্ভিসেস সেন্টার সমূহ ।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পরিচিতি,জনবল কাজ সহ বিস্তারিত_ bangladesh army

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী যা দেশের মধ্যে এবং দেশের বাহিরে শান্তি প্রতিস্থাপন করে যাচ্ছে।

• বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর স্থল শাখা। এটি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্ববৃহৎ শাখা। সেনাবাহিনীর প্রাথমিক দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষা সহ সব ধরনের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহায়তায় প্রয়োজনীয় শক্তি ও জনবল সরবরাহ করা। সেনাবাহিনীর সব ধরনের কর্মকান্ড সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সেনা শাখা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রাথমিক দায়িত্বের পাশাপাশি যেকোন জাতীয় জরুরি অবস্থায় বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় এগিয়ে আসতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সাংবিধানিক ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সক্রিয়
১৯৭১ - বর্তমান
দেশ
বাংলাদেশ
আনুগত্য
বাংলাদেশের সংবিধান
শাখা
সেনাবাহিনী
ধরন
স্থল যুদ্ধ
আকার
১,৪৮,৬১৭ জন সামরিক
অংশীদার
বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী
সেনাবাহিনী সদর দপ্তর
ঢাকা সেনানিবাস
পৃষ্ঠপোষক
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি
নীতিবাক্য
সমরে আমরা, শান্তিতে আমরা, সর্বত্র আমরা দেশের তরে
Colors
কালো, সবুজ
মার্চ
চল চল চল
বার্ষিকীসমূহ
সশস্ত্র বাহিনী দিবস(২১ নভেম্বর
যুদ্ধসমূহ
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ
পার্বত্য চট্টগ্রাম সংঘাত
উপসাগরীয় যুদ্ধ
অপারেশন থান্ডারবোল্ট
অপারে

ইতিহাস

প্রারম্ভিক ইতিহাস



বাংলার সামরিক ইতিহাসের মূল রাজা-মহারাজাদের সময় পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। সেসময় সেনাবাহিনীর প্রধানকে সেনাপতি বা
মহাসেনাপতি নামে ডাকা হত। সেই সব সেনাবাহিনী গঠিত হত পদাতিক, অশ্বারোহী, যুদ্ধ হাতি আর যুদ্ধজাহাজ নিয়ে। বাংলায় মুসলমানদের আগমন আর বাংলা সুলতানাত এর প্রতিষ্ঠা সামরিক বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করেছিল। সুলতানাতের একটি সুসজ্জিত ও সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনী ছিল। মুঘল শাসনের সময় বাংলায় কামান ও গোলন্দাজ বাহিনীর প্রচলন হয়।[৩] বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সময় বাংলা ছিল দক্ষিণ এশিয় অঞ্চলে বৃটিশদের শক্তির প্রতীক। ১৭৫৭ সালে লর্ড ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন বৃটিশ বাহিনী, নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার নেতৃত্বাধীন ৫০০০০ সৈন্যের বাংলার সেনাবাহিনীকে পলাশীর প্রান্তরে পরাজিত করে।পরবর্তীতে একই বৃটিশ বাহিনী ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে নবাব মীর কাসিমের নেতৃত্বাধীন বাংলার বাহিনীকে পরাজিত করে। বৃটিশরা বাংলায় আর্মি অফ বেঙ্গল প্রতিষ্ঠা করে যা পরবর্তীতে ১৮৯৫ সালে বৃটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনী র অংশ হয়ে যায়। বৃটিশ ভারতের পশ্চিম অংশ ছিল পুলিশ এবং সেনা সংগ্রহের জন্য অগ্রগণ্য অঞ্চল। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পূর্বে অশ্বারোহী বাহিনী এবং বল্লমধারী সৈন্যদলের সবাই ছিল এই অঞ্চলের। বিদ্রোহের পর বেঙ্গল উপসর্গ-যুক্ত বিভিন্ন ইউনিটে, যেমন: বেঙ্গল স্যাপারস এবং বেঙ্গল ক্যাভালরি ইত্যাদি, বিহার, বানারসি, উত্তর প্রদেশ ইত্যাদি অবাঙ্গালি অঞ্চল থেকে নিয়োগ দেয়া হত কারন এই অঞ্চলগুলো তখন
বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি র অধীনে ছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বাংলা থেকে সৈন্য সংগ্রহের জন্য বেঙ্গলি পল্টন প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯১৬ সালে বৃটিশ সরকার বেঙ্গলি ডাবল কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে। এই সৈন্যদেরকে করাচিতে প্রশিক্ষণ দেয়া হত আর পরে বাগদাদে মোতায়েন করা হত। যুদ্ধ শেষে এই সৈন্যরা বাগদাদে ১৯১৯ সালের কুর্দি বিদ্রোহ দমনে সাহায্য করে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ড পাইওনিয়ার কোর নামক একটি সহায়ক বাহিনী প্রতিষ্ঠা করে যারা ছিল কিছুটা প্রকৌশলী কিছুটা পদাতিক। এই বাহিনীর বেশিরভাগ সৈন্য সংগ্রহ করা হয়েছিল পূর্ব এবং পশ্চিম বাংলা থেকে। এই বাহিনী মূলত রাস্তাঘাট, বিমানঘাঁটি, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইত্যাদি নির্মাণের মাধ্যমে মূল বাহিনীকে সাহায্য করত। তবে প্রয়োজনে তারা পদাতিক হিসেবে জাপানের সাথে যুদ্ধও করত। এই বাহিনীকে বিভিন্ন কোম্পানিতে সংগঠিত করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন রেজিমেন্টের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছিল। ক্যাপ্টেন গনি ছিলেন একজন কোম্পানি কমান্ডার এবং তিনি বার্মা ফ্রন্টে তার বাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। যুদ্ধ শেষে পাইওনিয়ার কোরের সৈন্যরা ভারত ও জাপানের বিভিন্ন স্থানে সমবেত হয়ে বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় ছিল। ১৯৪৬ সালে, জালনায় অবস্থিত পাইওনিয়ার কোর সেন্টারের তৎকালিন অ্যাডজুট্যান্ট এবং কোয়ার্টারমাস্টার ক্যাপ্টেন গনি পূর্ব বাংলার যুদ্ধফেরত পাইওনিয়ার কোরের সৈন্যদের নিয়ে একটি পদাতিক রেজিমেন্ট তৈরির ধারনা দেন এবং কেন্দ্রীয় কমান্ডের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করেন। পরবর্তীতে ভারতে বৃটিশ শাসনের অবসান হয় এবং ভারত ও পাকিস্তান নামক নতুন দুই রাষ্ট্রের জন্ম হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যার ফ্রাংক মেজারভি এর অনুমতি পাওয়ার পর ক্যাপ্টেন গনি পূর্ববাংলার সৈন্যদের নিয়ে
বাঙালি পল্টন গঠন করেন যা ছিল পরবর্তীতে গঠিত পদাতিক রেজিমেন্টের মূল ভিত্তি।

১৯৭১: স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্ম

১৯৭০ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমান এর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। কিন্তু ক্ষমতায় থাকা সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায় যার ফলস্বরূপ অসন্তোষ ছড়িয়ে পরে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী অপারেশন সার্চলাইট শুরুর মধ্য দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের বেসামরিক জনগণের উপর ঝাঁপিয়ে পরে।  পাকিস্তানি বাহিনী এবং এর সহযোগী আধাসামরিক বাহিনী হাজার হাজার সামরিক-বেসামরিক মানুষ হত্যা করে। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে শেখ মুজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা প্রচারিত হয়। মার্চ মাসেই ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈন্যরা বিদ্রোহ করে এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। পরবর্তীতে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর) সৈন্যরাও সশস্ত্র প্রতিরোধে অংশ নেয়। সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি বেসামরিক জনগণ মিলে গড়ে তোলে
মুক্তিবাহিনী । ১৭ এপ্রিল প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয় এবং কর্ণেল (অব:) মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানীকে বাংলাদেশ বাহিনীর নেতৃত্বদানের দায়িত্ব দেয়া হয়।
১৯৭১ সালের ১১-১৭ জুলাই সেক্টর কমান্ডার্স কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এই কনফারেন্সে লে: কর্ণেল আব্দুর রবকে চিফ অফ স্টাফ, গ্রুপ ক্যাপ্টেন একে খন্দকারকে ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ এবং মেজর এ আর চৌধুরীকে অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ অফ স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে বাংলাদেশ বাহিনী কমান্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। কনফারেন্সে বিভিন্ন সেক্টরের গঠন এবং বিন্যাস, সেক্টরের সমস্যা, বিভিন্ন কৌশলগত দিক এবং বাংলাদেশ বাহিনীর জনবল বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়। এই কনফারেন্সে বাংলাদেশকে এগারটি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং প্রত্যেক সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ দেয়া হয়। সেক্টরের সকল কর্মকাণ্ড সেক্টর কমান্ডার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হত। নিয়ন্ত্রণের সুবিধার্থে কিছু সেক্টরকে একাধিক সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল। ১০ নম্বর সেক্টর ছিল সরাসরি বাংলাদেশ বাহিনীর প্রধানের অধীনস্ত এবং এই সেক্টরের জনবল ছিল প্রধানত নৌ কমান্ডোগণ।
কনফারেন্সের পর বাংলাদেশ বাহিনী একটি দীর্ঘমেয়াদী গেরিলা যুদ্ধ শুরু করে। পরবর্তীতে বাহিনীকে আবার পুনর্গঠন করা হয় এবং তিনটি ব্রিগেড আকারের সৈন্যদলে ভাগ করা হয়:

কে ফোর্স , মেজর খালেদ মোশাররফ এর নেতৃত্বাধীন, ৪, ৯ ও ১০ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত।

এস ফোর্স , মেজর কেএম শফিউল্লাহর নেতৃত্বাধীন, ২ ও ১১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত।

জেড ফোর্স , মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন, ১, ৩ ও ৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত।

২১ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ বাহিনীর সামরিক সদস্যদের নিয়ে। প্রতিষ্ঠার পর মুক্তিবাহিনীর গেরিলা যুদ্ধের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী প্রথাগত যুদ্ধ শুরু করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ এবং ভারতের যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ৯ মাসব্যাপী চলা স্বাধীনতা যুদ্ধের অবসান ঘটে এবং স্বাধীন বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়।

১৯৭১ পরবর্তী: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিকাশ


মুক্তিযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মুক্তি বাহিনীর সদস্যদের সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শাখায় অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হয়। ১৯৭৪ সালে পাকিস্তান ফেরত কর্মকর্তা ও সৈন্যদের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
১৯৭২-৭৩ সালের মধ্যেই সেনাবাহিনীতে
ইঞ্জিনিয়ার্স, সিগন্যাল, সার্ভিস, অর্ডন্যান্স ,
মিলিটারি পুলিশ, অশ্ব গবাদি পশুপালন ও খামার এবং মেডিক্যাল কোর গঠিত হয়। ১৯৭৪ সালে কুমিল্লা সেনানিবাস এ বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৫ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথম শর্ট কোর্সের পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৭৫ সালে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) গঠিত হয়।
সেনাবাহিনীতে মুক্তিবাহিনীর বেসামরিক সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি এবং জাতীয় রক্ষীবাহিনী সৃষ্টির মত ঘটনা গুলো নিয়ে তৎকালীন সেনাবাহিনীর সদস্য এবং সরকারের মধ্যে সন্দেহ-অবিশ্বাসের সৃষ্টি হয়। এই সমস্ত সন্দেহ-অবিশ্বাস এবং ভুল বোঝাবুঝি পেশাদার সেনা কর্মকর্তা এবং বিদ্যমান সরকারের মধ্যে নানা রকম মতবিরোধ সৃষ্টি করে যার ফলস্বরূপ সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তাক্ত অধ্যায়ের সৃষ্টি হয়।


আরো বিস্তারিত পরের পর্বে পাবেন

সেনাবাহিনীতে কর্মকর্তা পদে চাকরি army job news


চাকরির খবর 

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর  সদর দফতর থেকে পরিচালিত ক্যাডেট কলেজসমূহে প্রভাষক এবং কর্মকর্তা পদে ৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: সেনাবাহিনী সদর দফতর

পদের নাম: প্রভাষক, ইংরেজি

পদসংখ্যা: ০১ জন
শিক্ষাগত যোগ্যতা: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সম্মান/স্নাতকোত্তর/স্নাতক (সম্মান)
দক্ষতা: ইংরেজি ভাষায় কথোপকথনে সাবলীল

বেতন: ২২,০০০-৫৩,০৬০ টাকা

পদের নাম: প্রভাষক, অর্থনীতি

পদসংখ্যা: ০১ জন
শিক্ষাগত যোগ্যতা: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সম্মান/স্নাতকোত্তর/স্নাতক (সম্মান)
দক্ষতা: ইংরেজি ভাষায় কথোপকথনে সাবলীল

বেতন: ২২,০০০-৫৩,০৬০ টাকা

পদের নাম: হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা

পদসংখ্যা: ০২ জন
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এম.কম/বি.কম (সম্মান)/সিএ/আইসিএমএ
দক্ষতা: কম্পিউটার পরিচলানায় পারদর্শী
বেতন: ২২,০০০-৫৩,০৬০ টাকা

বয়স: ০১ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে ১৮-৩০ বছর। বিশেষ ক্ষেত্রে ৩২ বছর

আবেদনপত্র সংগ্রহ: আগ্রহীরা
www.cadetcollege.army.mil.com থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।
আবেদনের ঠিকানা: সভাপতি, ক্যাডেট কলেজ পরিচালনা পরিষদ এবং অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, সেনাসদর, এজি শাখা (সমন্বয়), ঢাকা সেনানিবাস।

আবেদনের শেষ সময়: ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮সেনাবাহিনীতে কর্মকর্তা পদে চাকরি army job news